Avatar মোঃ আব্দুর রাকিব

সালাত বললে কেউ শাব্দিক অর্থ হিসেবে অন্য অর্থ বোঝে না, যাকাত বললে কেউ পবিত্রতা বোঝে না, সিয়াম বললে কেউ অন্য শাব্দিক অর্থ বোঝে না, শাব্দিক অর্থ নিয়ে লাফালাফি হয় শুধু জি হাদ নিয়েই।

শরীয়তের সমস্ত ফরজ বিধানের যেমন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা রয়েছে, রয়েছে নির্দিষ্ট সীমা আর পরিচিতি, তেমনিভাবে জি হাদেরও রয়েছে নির্দিষ্ট পরিচয়, শর্ত-শারায়েত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ‘হাইয়া আলাল জি হাদ’ ঘোষণা হলে সাহাবায়ে কেরাম নামাজের দিকে দৌড়াতেন না, ওয়াজের ময়দানে দৌড়াতেন না, খেত-খামারে শাব্দিক জি হাদ করতে যেতেন না। তাঁরা যে কাজটি করতেন সেটাই জি হাদ। সমস্ত মুহাদ্দীসগণ তাদের হাদীসের কিতাবে জি হাদ বলতে যা বুঝিয়েছেন, ফিকহের ইমামগণ তাদের ফিকহের কিতাবে জি হাদের অধ্যায়ে যা আলোচনা করেছেন, এসব না জানার কারণে অথবা ভালোভাবে না পড়ার কারণেই কেউ কেউ এখন ভুলভাল বকওয়াস করে।

প্রত্যেক জিনিসের শাব্দিক অর্থ থাকবেই, অন্যান্য ফরজ ইবাদতে যদি শাব্দিক অর্থ আমলের ক্ষেত্রে ধর্তব্য না হয়, জি হাদের ক্ষেত্রেই কেন শাব্দিক অর্থ নিয়ে পড়ে থাকতে হবে! এর কারণ কয়েকটি কারণ হতে পারে, আমাদের সমাজ, আমাদের যুগ জি হাদের ক্ষেত্রে এমন বিকৃতিই শিখিয়ে আসছে যুগের পর যুগ ধরে, অথবা কোনো ভয় বা হীনম্মন্যতায় আমরা এমনটা করছি ইচ্ছে করেই।

আরও সহজে বলি, জি হাদের উদ্দেশ্য হলো দ্বীনকে সমুন্নত করা, ইসলামকে বিজয়ী করা। এখন কোন কাজ দ্বীনকে সমুন্নত করে, ইসলামকে ‘বিজয়ী’ করে, এটা বুঝতে না পারলে আপনি দ্বীনের প্রাথমিক অংশই বোঝেননি।

© Tanjil Arefin Adnan

3 months ago · 218 Views · Public
Like (5) - Comment - Share - Translate to English - More

Leave a Comment

Login to leave a comment.

Comments

Total Comments: 0

No comments yet.