Avatar As-sidq News

পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর ভূমির উপর জেএনআইএম মুজাহিদদের নিয়ন্ত্রণের ম্যাপ

‎এই অঞ্চলের আনুমানিক বর্তমান পরিস্থিতির উপর একটি মানচিত্র:


‎- ম্যাপের গাঢ় সবুজ এলাকা সম্পূর্ণ জেএনআইএম নিয়ন্ত্রিত
‎- ম্যাপের হালকা সবুজ এলাকার সিংহভাগ জেএনআইএম নিয়ন্ত্রিত এবং কিছু এলাকার গোত্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ
‎- ম্যাপের নীল ডোরাকাটা অংশ আজওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট এবং জেএনআইএম নিয়ন্ত্রিত
‎- ম্যাপের লাল ডোরাকাটা অংশ জেএনআইএম এবং জান্তার বিতর্কিত অঞ্চল, যেখানে উভয় পক্ষ যুদ্ধরত রয়েছে
‎- ম্যাপের সম্পূর্ণ লাল অংশ মালির জান্তা নিয়ন্ত্রিত
‎- ম্যাপের বেগুনি ডোরাকাটা অংশ জেএনআইএম এবং বুরকিনান জান্তার বিতর্কিত এলাকা, যেখানে উভয় পক্ষ যুদ্ধরত
‎- ম্যাপের সম্পূর্ণ বেগুনি অংশ বুরকিনান জান্তা নিয়ন্ত্রিত
‎- ম্যাপের কালো অংশে খারিজি গোষ্ঠীর সদস্যরা সক্রিয়

পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের দেশ মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজার, বেনিন, টোগো এবং নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামা'আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)। অঞ্চলটিতে জেএনআইএম এর সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় এই অঞ্চলের জান্তা বাহিনীগুলোর দীর্ঘদিনের সামরিক শাসন দিন দিন দূর্বল হয়ে আসছে এবং নিরাপত্তা সংকট প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।

‎চলতি ২০২৬ সালের ২৫শে এপ্রিল, জেএন/আইএম এর সমন্বিত আক্রমণ শুরুর ফলে এই অঞ্চলটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। যেদিন জেএনআইএম একযোগে মালির উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি মধ্য মালি এবং দেশের কেন্দ্রস্থল বামাকো সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একযোগে বৃহৎ পরিসরে সমন্বিত সামরিক অপারেশন চালিয়েছেন। এই অভিযানের ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং গোয়েন্দা প্রধান সহ শীর্ষস্থানীয় ৩৯ জন জান্তা অফিসার নিহত হয়েছিল। এছাড়াও আরও শত শত জান্তা ও মিলিশিয়া সদস্য নিহত এবং আহত হয়েছে, বন্দি হয়েছে ৬ শতাধিক জান্তা সদস্য।

‎পশ্চিম আফ্রিকার সংঘাতময় পরিস্থিতিতে তিনটি প্রধান দেশ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: মালি, বুরকিনা ফাসো এবং নাইজার। তবে বর্তমানে মালি এই অঞ্চলের সংঘাতময় পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি কেন্দ্রীয় শহর ব্যতীত পুরো অঞ্চলই জেএনআইএম এবং তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

‎একই অবস্থা বিরাজ করছে মধ্যাঞ্চলেও, কেননা মধ্য মালির মোপ্তি রাজ্য, মাসিনা এবং সেগু রাজ্যের সিংহভাগ এলাকায় জেএনআইএম এর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। এরমধ্যে মোপ্তি রাজ্যের কেন্দ্রীয় ২টি শহর ছাড়া সম্পূর্ণ এলাকা জেএনআইএম এর নিয়ন্ত্রণে, আর শহর ২টিও জেএনআইএম কর্তৃক বর্তমানে অবরুদ্ধ রয়েছে। উত্তর ও মধ্য মালি ছাড়াও জেএনআইএম মুজাহিদিনরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব মালির বেশ কিছু এলাকাও নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর রাজধানী বামাকো ও তার আশপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জেএনআইএম মুজাহিদিনরা মালির জান্তার সাথে বর্তমানে তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত। একই সাথে রাজধানী বামাকো এবং দেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কাইসের আশেপাশে জেএন/আইএম তার প্রভাব বাড়িয়ে চলছে। সেই সাথে রাজধানী বামাকোর উপর অবরোধ দীর্ঘায়িত করছে।

‎এদিকে মালির উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তবর্তী মৌরিতানিয়া এবং আলজেরিয়ার মরু অঞ্চলেও জেএনআইএম মুজাহিদিনরা সক্রিয় রয়েছেন। এপ্রিলে জেএনআইএম এর সমন্বিত অভিযানের পর রাশিয়া-সমর্থিত মালির জান্তা দেশের উত্তরে তার প্রভাব প্রায় সম্পূর্ণরূপে হারিয়েছে। এই অঞ্চলে জেএনআইএম-এর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভিযানে অংশগ্রহণকারী আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) সক্রিয় রয়েছে। দলটি শরিয়াহ্ শাসন ফিরিয়ে আনা সহ কয়েকটি শর্তে জেএনআইএম এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

‎অপরদিকে মালির পূর্বাঞ্চল বিশেষ ত্রিভূজ সীমান্তবর্তী নাইজারে খারেজি গোষ্ঠী আইএসআইএস সক্রিয় রয়েছে। এই অঞ্চলে জেএনআইএম মুজাদিনরা তাদের নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত এলাকাগুলো নিরাপদ রাখতে গিয়ে বিভিন্ন সময় খারেজি গোষ্ঠীটির সাথে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে লিপ্ত হতে বাধ্য হন।


‎পশ্চিম আফ্রিকায় জেএনআইএম এর প্রভাবাধীন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দেশ বুরকিনা ফাসো:

‎মালির প্রতিবেশি দেশ বুরকিনা ফাসো বর্তমানে প্রতিরোধ বাহিনী জেএনআইএম মুজাহিদিন এবং দেশটির জান্তা প্রশাসনের মধ্যে বিভক্ত।

‎দেশের গ্রামীণ এলাকা এবং সীমান্ত এলাকাগুলোর সিংহভাগই জেএনআইএম-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাহিরের এলাকাগুলোও দলটির প্রভাবাধীন। আর রাজধানী এবং এর আশেপাশের শহরগুলোতে সেনাবাহিনী (জান্তা) সক্রিয় রয়েছে।

‎জেএনআইএম মুজাহিদিনরা বুরকিনা ফাসোর উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম এবং দক্ষিণের ঘানা সীমান্ত ছাড়া সমস্ত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সক্রিয় রয়েছেন। এই ধারাবাহিকতায় দলটির মুজাহিদিনরা ধীরে ধীরে দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন এবং অবরোধের কৌশল অবলম্বন করছেন। এদিকে বুরকিনান সীমান্ত অঞ্চলগুলো ব্যবহার করে জেএনআইএম মুজাহিদিনরা আইভরি কোস্ট, ঘানা, টোগো, বেনিনে তাদের প্রভাব বিস্তার করেছেন। আর বেনিন সীমান্ত হয়ে নাইজেরিয়ার ভূখণ্ড পর্যন্ত জেএনআইএম মুজাহিদিনরা তাদের উপস্থিতি শক্তিশালী করছেন।

Post Image 2 months ago · 219 Views · Public
Like (32) - Comment - Share - Translate to English - More

Leave a Comment

Login to leave a comment.

Comments

Total Comments: 4

Avatar

Ampeire deus: Hmmm

2 months ago - [Report]
Avatar

Noor Net: Yes:good:

2 months ago - [Report]
Avatar

OlD GanGStaR: is this true?

2 months ago - [Report]
Avatar

Mary Smith: Hn

2 months ago - [Report]